পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সোহেল সিকদারের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো বরিশালের বাকেরগঞ্জের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা আক্তারের দুই এতিম শিশু সন্তান সাফওয়ান ও তাসফিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বাবাই আমাদের মাকে মেরে ফেলেছে এই বলে দুই শিশুর বুকফাটা কান্না উপস্থিত লোকজনের হৃদয় বিদীর্ণ করেছে। ঘটনার ভয়াবহতায় শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের এই অসহায়ত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি শিশু দুটির দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতক স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের নৃশংস পারিবারিক সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও ভরসার জায়গা খুঁজে পেয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক