সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

জাহাজভাঙা শিল্পে এককালীন ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ

জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকের মৃত্যু ও দুর্ঘটনা রোধে এককালীন অর্থ সহায়তাকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা না করে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, সামাজিক পুনর্বাসন এবং স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। একই সঙ্গে শিল্পমালিক থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ভারী শিল্প খাতে একের পর এক দুর্ঘটনা এবং শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব ঘটনায় কেবল আর্থিক অনুদান দিয়ে দায় সারার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

মানবাধিকারকর্মী ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, জাহাজভাঙা বা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে কাজ করা শ্রমিকরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করেন। ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের বিপজ্জনক ভারী লোহা কাটার কাজে নিয়োজিত করা হয়। ফলে প্রতিনিয়ত অঙ্গহানি কিংবা প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। কিন্তু মালিক পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কেবল একবার কিছু অর্থ ধরিয়ে দিয়েই দায় মুক্তি খোঁজা হয়, যা কোনোভাবেই মানবিক বা আইনসম্মত হতে পারে না।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, একজন শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্ব কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই এককালীন সাহায্যের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আজীবন আয়ের সংস্থান, আহত শ্রমিকদের উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি শিল্পমালিকদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে কলকারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এই খাতকে নিরাপদ ও শ্রমিকবান্ধব করতে অবিলম্বে কঠোর শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকির আহ্বান জানান তারা।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD