ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে দেশের কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার তীব্র প্রতিবাদ করবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ধরনের কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে দলটি কেবল রাজপথেই সরব থাকবে না, বরং জাতীয় সংসদের ভেতরেও জোরালো কণ্ঠে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে।
সম্প্রতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নানা নিপীড়নের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। সেই অন্ধকার দিনগুলোর পুনরাবৃত্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও যোগ করেন, কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। তারা নানাভাবে দেশের ভেতরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপি যেকোনো মূলtheir এই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। যদি কোথাও কোনো ধরনের অবিচার বা বৈষম্যের সৃষ্টি হয়, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে সবার আগে গিয়ে দাঁড়াবে। সংসদ থেকে রাজপথ—সবখানেই জনগণের অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক