কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশ পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক ও এক কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এই দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই আকস্মিক ঘটনা ঘটে। বিএসএফের এমন আচরণে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ধরে নিয়ে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। তারা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে সীমান্ত এলাকায় কীভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই বিএসএফ সদস্যরা এসে তাদের জোরপূর্বক ধরে ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছেন। সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। কীভাবে এই সংকটময় পরিস্থিতির সমাধান করা যায় এবং আটক পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ফেরত আনা যায়, সে বিষয়ে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নানা সময় ঘাটতি দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় আরও বেশি সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে ভারতের এ ধরনের আগ্রাসী মনোভাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটির নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক