চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষে হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার কিছুটা কমেছে। গত সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তা কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার বংশবিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির আওতায় হটস্পটগুলোতে মশার লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে রোগীর সংখ্যা কমলেও সার্বিক ঝুঁকি এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ বজায় থাকায় যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ড্রেন, নর্দমা এবং জমে থাকা পানির পাত্রগুলোতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো না হলে রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে। তাই ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আক্রান্ত রোগীরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক