বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার ছায়া তদন্ত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ সময় ধরে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করার পর অবশেষে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত থামিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এলো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই মামলার প্রকৃত মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত জরুরি। তবে পিবিআই আশঙ্কা করছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বা হবে, তাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নাও থাকতে পারে। আর এই জটিলতার কারণেই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মহলের দাবি সত্ত্বেও এই মামলাটির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্য করা গেছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সুবিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাহসিফ সাউরির পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ চক্র অতীতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে নানা অপতৎপরতা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের প্রতিটি হত্যা ও অন্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। পিবিআইয়ের এই ছায়া তদন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক