দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), এক কনস্টেবল ও এক সোর্সকে বাসে তুলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুবির দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের তল্লাশি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এএসআইসহ তিনজনকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয় এবং ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহོলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অতীতেও বহুবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তল্লাশির ঘটনাটি ছিল তারই একটি অংশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং পুলিশ ও শিক্ষার্থী সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো সংযত আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। আলোচিত এই ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক