জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাইদুর মুন্সী (৪৫) নামের এক শিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে শিক্ষক সাইদুর মুন্সী ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে শিশুটির চিৎতার আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিক্ষক পালিয়ে যান।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর শিশুটির পরিবার স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারক সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত শিক্ষক সাইদুর মুন্সীকে এই দণ্ড প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা এমন অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দাবি জানান।
এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শিক্ষক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আদালতের এই রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক