২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় একটি শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, পাঠদানে চরম অবহেলা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ড। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অভিভাবক মহলে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে ওই ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের আগামী ১০ নভেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি সভায় সশরীরে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল শোকজ নোটিশ দিয়ে দায় সারলে চলবে না, বরং এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও শিক্ষাখাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলেছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আজও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষক নিয়োগের কারণে আজ শিক্ষার এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা খাতের এই বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে কঠোর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, আগামী ১০ রোববারের জরুরি সভা থেকে এই ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আসবে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক