একটি সভ্য, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন এবং মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই গুরুদায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তারা হলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের ফলে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আজ ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় অনুশাসন ও ইসলামি মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একজন পুলিশ সদস্য যখন ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হন, তখন তিনি জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার পরিবর্তে তাদের সেবা করার মানসিকতা লালন করেন। অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন স্বাধীন ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান সময়ে পুলিশি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, পুলিশিং কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈতিক প্রশিক্ষণ ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব ঘুচে গিয়ে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে, যা একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনে অনন্য অবদান রাখবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক