জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআনের অর্থ অনুবাদ করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন উমর মিতা। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই জাপানি নাগরিক চীনে মুসলিমদের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। জীবনের শেষভাগে এসে দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি কোরআনের বাণী জাপানি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন। উমর মিতার এই ঐতিহাসিক অবদান জাপানের ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন, উমর মিতার জন্ম ১৯০৯ সালে জাপানের একটি ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ পরিবারে। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। চীন ও কোরিয়ায় কর্মরত থাকার সময় তিনি মুসলিম সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন এবং ইসলাম ধর্মের শান্তির বার্তা তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের জীবনকে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।
গণমাধ্যমকে জানান, জাপানি ভাষায় সে সময় কোরআনের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদ ছিল না। এই শূন্যতা পূরণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন উমর মিতা। দীর্ঘ আট বছর ধরে কঠোর সাধনা ও আরবি ভাষা নিয়ে গবেষণা করে তিনি পবিত্র কোরআনের জাপানি অনুবাদ সম্পন্ন করেন। তার এই অনুবাদ কেবল একটি ভাষান্তরই ছিল না, বরং এটি ছিল জাপানি পাঠকদের জন্য ইসলামের মূল শিক্ষা অনুধাবনের এক অপূর্ব সুযোগ। তার এই কাজের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে জাপানে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হতে শুরু করে এবং বহু মানুষ ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
বর্তমানেও উমর মিতার সেই অনুবাদ জাপানি মুসলিম কমিউনিটির কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সাথে পঠিত হয়। তার এই আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা প্রমাণ করে যে, সঠিক নিয়ত এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে ভাষা বা সংস্কৃতির প্রাচীর ভেদ করেও ইসলামের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের গবেষক এবং ইসলাম প্রচারকদের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক