দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে এক নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন নিয়ে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা চালানো হয়। এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, প্রায় প্রতিটি ডোমেইনেরই ক্রেডেনশিয়াল বা গোপনীয় তথ্য উন্মুক্ত বা ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সাইবার দুর্বলতার কারণে অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ লগইন তথ্য সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ১৮ লাখেরও বেশি সাধারণ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড বিভিন্ন অননুমোদিত মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এই বিশাল পরিমাণ ডেটা ফাঁস দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে দেশের সমস্ত ডিজিটাল সিস্টেমে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন। তারা জানান, বর্তমান যুগে সাইবার হামলা মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে দেশ। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক