ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগপত্র নবায়ন ও পদে বহাল রাখার নামে ঘুষ দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন কর্মী পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড বয় এবং অফিস সহায়ক পদে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের নিয়োগপত্র নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. হেলেনা আক্তার নিপা প্রতিটি নিয়োগপত্র নবায়ন এবং তাদের চাকরিতে বহাল রাখার জন্য মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় হাসপাতালের স্টাফ ও স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আউটসোর্সিং কর্মী গণমাধ্যমকে জানান, এমনিতেই তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এর ওপর নতুন করে এই ঘুষের দাবি তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে তারা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. হেলেনা আক্তার নিপা সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ এখানে নেই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক