মক্কা চুক্তি বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত একটি ভূরাজনৈতিক বিষয়। চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট বা মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নানা ধরনের সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর পরিসরে নতুন শক্তির উদয় হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগদান করবে কি না বা এ বিষয়ে দেশের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল এবং পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বৈদেশিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি একরৈখিক থাকলেও বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বৈচিত্র্য এসেছে। মূলত বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য অংশীজনরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো কার্যকর আঞ্চলিক উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
অন্যদিকে, মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো এই চুক্তির ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ কেউ মনে করছেন এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এটি নতুন কোনো সামরিক বলয় তৈরি করতে পারে। তবে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ভারসামy রক্ষা করেই কেবল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ বৈদেশিক নীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক