ঘরের এক কোণে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন আমিরুল হোসাইন (৩৮)। পরিচিতজনেরা আসছেন, তাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কাঁদছেন, সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন-কিন্তু আমিরুলের চোখেমুখে যেন এক শূন্য দৃষ্টি। ঘরের ভেতর থেকে একটানা ভেসে আসছে স্বজনদের বুকফাটা হাহাকার। এর মাঝেই ডাক পড়ল, জানাজার সময় হয়েছে। জানাজা শেষে চিরদিনের মতো স্ত্রী হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ওই তরুণী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। রেখে গেছেন মাত্র এক মাসের একটি ফুটফুটে শিশু সন্তান। এই অল্প বয়সি শিশুকে মায়ের বুক থেকে চিরতরে ছিনিয়ে নিয়েছে সর্বনাশা ডেঙ্গু জ্বর। পরিবারে নেমে এসেছে এক শোকের মাতম। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও স্বাস্থ্যখাতের চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, যার খেসারত আজও সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করা হয়েছিল।
বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে না এলে এই রোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এদিকে আমিরুল হোসাইনের মতো স্বজনহারা মানুষদের চোখের জল থামছে না। ছোট্ট শিশুটির ভবিষৎ নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে শোকার্ত পরিবারটি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক