রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের নানা অজুহাতে বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনার একটি গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.
হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়ন এবং রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্যে এই আকস্মিক পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থেকে দেখতে পান যে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ল্যাবরেটরিতে সব ধরনের পরীক্ষা বিনামূল্যে বা সরকার নির্ধারিত কম খরচে করার সুযোগ থাকার পরও একটি চক্রের যোগসাজশে রোগীদের জোরপূর্বক বাইরে থেকে অতিরিক্ত চড়া মূল্যে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এই অনিয়মের কথা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, সাধারণ গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতাল প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির শেকড় প্রোথিত হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের এই জনবান্ধব পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ এখন আশা করছেন যে, খুব শীঘ্রই দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি চিরতরে বন্ধ হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক