ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এসব চুক্তির কোনোটি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী কিংবা জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে গেছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত গোপন ও প্রকাশ্য চুক্তিগুলো নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় বিরাজ করছিল। বিশেষ করে দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে যেসব চুক্তি করা হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সেগুলোর আইনি ও কৌশলগত বৈধতা পরীক্ষা করে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অসম চুক্তি ও আধিপত্যবাদী নীতির কারণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ অবস্থায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে। ১০১টি চুক্তির এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যালোচনার পর যেসব চুক্তি দেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হবে, সরকার সেগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক