ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় পোশাক পরিধানের কারণে এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে এক নেকাব পরা ছাত্রীকে মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও ক্লাস থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ঘটনাটির পর পরই ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা গণমাধ্যমকে জানান যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার কারণে তাদের নানাভাবে মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের অধিকার রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও বেশি সজাগ থাকা উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এদিকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের মৌলবাদী আচরণ বা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বরদাশত করা হবে না। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের রেখে যাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠুরের দলীয় প্রভাব ও মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো এখনো কিছু কুচক্রী মহল শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক