আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ম্যাংগো পিল টি বা আমের খোসার চা। ফেলে দেওয়া আমের খোসাকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যতিক্রমী এই চা তৈরি করছেন জেলার ভোলাহাট উপজেলার তিন শিক্ষিত বন্ধু—মাইনুল ইসলাম, মিঠুন ও মাসুম। উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশে আমের খোসা দিয়ে চা তৈরির এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম।
সাধারণত আম খাওয়ার পর খোসাগুলো আমরা ময়লা মনে করে ফেলে দিই। কিন্তু এই তরুণেরা গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, আমের খোসাতেও রয়েছে পুষ্টিগুণ এবং চমৎকার স্বাদ। এই চা তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংগ্রহ করা হয় ভালো মানের আমের খোসা। এরপর সেগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো হয়। পরবর্তীতে তা বিশেষ মেশিনে গুঁড়ো করে চায়ের পাতার সঙ্গে বা একাটি স্বতন্ত্র পানীয় হিসেবে প্যাকেটজাত করা হয়।
উদ্যোক্তারা গণমাধ্যমকে জানান, এই চা কেবল সুস্বাদুই নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি গুণ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এই চা রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশাবাদী। স্থানীয় যুবসমাজ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং অনেকেই এখন এমন অভিনব কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো বড় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে তারা এই কাজ শুরু করেছেন।
বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে এই চা নিয়ে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জেলাজুড়ে আমের বহুমুখী ব্যবহারের যে সম্ভাবনা রয়েছে, এই ম্যাংগো পিল টি তা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দেশের অর্থনীতিতে নতুন এই সংযোজন তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক