মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সে সঙ্গে অঞ্চলটির কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার মধ্যেই এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সেনা প্রত্যাহার ও কূটনৈতিক কর্মী কমানোর প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি কৌশলগত দেশের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত সেনা ও সমরাস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নিরাপদ দূরত্বে। একই সঙ্গে যেসব কূটনৈতিক মিশনে জরুরি প্রয়োজন নেই, সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে পুরো অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে থাকলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করা হলেও মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই সামরিক কমানোর নীতি আদতে বড় কোনো সংঘাতের পূর্বপ্রস্তুতি কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন চলছে নানা সমীকরণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক