স্থানীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি দল একসঙ্গে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই দলগুলো এখন থেকে সমমনা ইসলামী দল ব্যানারে যৌথভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করবে বলে সাংবাদিকদের জানান জোটের শীর্ষ নেতারা। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐকমত্যে পৌঁছায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেই এই ইসলামপন্থী দলগুলো এক প্ল্যাটফর্মে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, এককভাবে নির্বাচন করার চেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে মাঠের রাজনীতিতে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ইসলাম ও দেশীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সমমনা দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ওপর বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল ও সংগঠনের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। এমনকি কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সহযোগীরা দেশের আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে ইসলামপন্থী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন কওমি ধারার এই শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এই সমমনা জোট কীভাবে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনী কৌশল কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির জন্য একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই জোটের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক এজেন্ডা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক