পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ২২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ার অন টেরর প্রিজনার অব কনসায়েন্স হিসেবে অভিহিত করেছে ব্রিটেনভিত্তিক অধিকার সংগঠন সিএজিই ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলে যখন এই কারাবন্দি নেতার মুক্তি এবং তার ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের এই বিষয়ে দৃশ্যমান নীরবতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে অনেক মুসলিম দেশ পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি সমালোচনা থেকে বিরত থাকছে। বিশেষ করে ফাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলেও যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বৈশ্বিক পরিসরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতো, ঠিক তেমনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বাইরের হস্তক্ষেপ এড়াতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে। অথচ বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠনগুলো কারাবন্দি ইমরান খানের অবিলম্বে মুক্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের এই উদাসীনতা মানবাধিকারের সার্বজনীনতার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে নিপীড়িত রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে কথা বলা মুসলিম দেশগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। সিএজিই ইন্টারন্যাশনালের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাসীর নজর এখন এই বিষয়ের দিকে এবং ভবিষ্যতে এই নীরবতা ভাঙবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ইস্যুগুলোতে বরাবরই রাখঢাক রাখা হতো, যা পরবর্তীতে দেশের গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে তলানিতে নিয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেদিকে সচেতন মহলের দৃষ্টি রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক