জামায়াত দল হিসেবে সম্পূর্ণ অকৃতজ্ঞ এবং তারা অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের ঐতিহাসিক অবদান সম্পূর্ণ ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ২০০১ সালে দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরম উদারতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব প্রদান করেছিলেন। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের সাম্প্রতিক ভূমিকা ও আচরণে সেই কৃতজ্ঞতাবোধের লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরও যোগ করেন যে, জাতীয় রাজনীতির এই দীর্ঘ পরিক্রমায় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের নানা ধরনের জুলুম-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যখন গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন ছিল, তখন এ ধরনের অকৃতজ্ঞসুলভ মনোভাব জাতীয় ঐক্যের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অথচ দেশবাসীর মনে রাখা উচিত যে, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় উদার গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক মিত্রদের সম্মান রক্ষা করে চলেছেন। আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কীভাবে তৎকালীন সময়ে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন দলকে মূল ধারার রাজনীতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি হিসাব-নিকাশ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যখন কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত, তখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে বলে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক