কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কিতাবগুলো অপরিবর্তিত রেখে আনুষঙ্গিক কিতাবাদিতে যুগোপযোগী সংস্কার ও ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত নতুন কিতাব যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ, রাজধানীর শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান মুফতি আল্লামা মিফতাহ উদ্দীন কাসেমী। সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মুফতি মিফতাহ উদ্দীন কাসেমী বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজে নানা ধরনের নতুন ফিতনা এবং আধুনিক দার্শনিক জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কওমি শিক্ষার্থীদের শুধু ঐতিহ্যগত জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং সমসাময়িক বিষয়েও সম্যক ধারণা অর্জন করতে হবে। তবে তিনি কওমি সনদের মূল ভিত্তি এবং দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সিলেবাসের কলেবর বৃদ্ধি না করে অপ্রয়োজনীয় বা পুরোনো কিছু বিষয়ের স্থলে যুগের চাহিদাপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটবে এবং তারা সমাজ বিনির্মাণে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও আলেম সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কওমি মাদরাসা শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ ও এর মূল ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার নানা চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকর হওয়া কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং নিষিদ্ধ যুবলীগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তা আজ জাতির সামনে উন্মোচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সময়ের দাবি। এই সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে আরও মুন্সিয়ানা দেখাতে পারবে। দেশের সচেতন মহল এবং শিক্ষাবিদরা মুফতি সাহেবের এই যুগোপযোগী প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক