জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন বিশিষ্ট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কূটনৈতিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তি হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান কীভাবে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে মূলত স্বৈরাচারী শাসকের বিচার এড়ানোর অপচেষ্টাকেই জোরালোভাবে উপহাস করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার জোর দাবি উঠেছে সব মহল থেকে। অথচ একটি মহলের পক্ষ থেকে তাকে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাকে রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন দেশের জনগণ।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করিয়ে দেন যে, কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশবাসীর ওপর যে নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছে, তার জন্য স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। ফলে কূটনৈতিক বা অন্য কোনো উপায়ে তাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে কোনো ধরনের আপস না করে পলাতক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক