ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন ঝিনাইদহের তরুণ সোহেল রানা। কিন্তু মানবপাচারকারীদের নির্মম প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে তার মরদেহ ফিরেছে নিজ বাড়িতে। ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রটি তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিদেশে জিম্মি করে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। দীর্ঘ ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তার নিথর দেহ ফিরে আসে পরিবারের কোলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় বৈধ ও অবৈধ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে দেশি-বিদেশি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা। সোহেল রানার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথমে সহজ শর্তে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় আসল বিপত্তি। একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন চালায় এবং ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করে।
পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে এবং নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে বিভিন্ন মাধ্যমে পাচারকারীদের কথামতো টাকা পাঠিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোহেল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা অবিলম্বে এই আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত দালালদের গ্রেফতারে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে নেমেছে। বিদেশে পাঠানোর নামে এই ধরনের লোমহর্ষক প্রতারণা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজকে এই ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ থেকে বিরত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালো সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক