কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ। দুর্গম এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতার অভাব থাকলেও, সংস্থাটির সময়োপযোগী পদক্ষেপে এখন আশার আলো দেখছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।
সংস্থাটির সার্বিক সহায়তায় স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ লাভ করছেন। এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেকেই বর্তমানে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি নিজ পরিবার ও সমাজে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। শুধু অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়, বরং সামাজিকভাবে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাতেও ফ্রেন্ডশিপের এই উদ্যোগ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
কুড়িগ্রামের নদীভাঙন কবলিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে একসময় প্রতিবন্ধী মানেই ছিল পরিবার ও সমাজের বোঝা। কিন্তু ফ্রেন্ডশিপের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে এই ধারণায় পরিবর্তন এনেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। এর ফলে অবহেলিত এই মানুষগুলো আজ আর কারও উপর নির্ভরশীল থাকতে চাচ্ছেন না, বরং নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার লড়াইয়ে জয়ী হচ্ছেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ফ্রেন্ডশিপের মতো সংস্থাগুলোর এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরাঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের প্রতিটি দুর্গম অঞ্চলে এমন ইতিবাচক পরিবর্তন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক