সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কূটনৈতিক মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি রিয়াদ। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনজীবীর সহায়তা এবং কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কুটনৈতিক সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দಿ বা আইনি জটিলতার সম্মুখীন প্রবাসীদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রবাসীদের কল্যাণে জোরালো কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে অবহিত করা এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা আবশ্যক। রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব না আসায় বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা, প্রবাসীদের আইনি সহায়তা প্রদানে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কোনো নাগরিকের ওপর অবিচার রোধে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক