অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়র মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা করে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের চলমান প্রক্রিয়াকে সহায়তা ও জনসমর্থন প্রদান করতে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ প্রচারণা শুরু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। বর্তমান সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে নানা ধরনের অসংক্রামক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্যের মোড়কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা।
এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে জনস্বাস্থ্যের চেয়ে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে সাধারণ মানুষের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রচারণা সফল করতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান আয়োজকরা বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে শুধু নীতিমালার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার পাশাপাশি সামাজিক পর্যায়েও এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সচেতনভাবে তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা নির্বাচন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক