বর্তমান সময়ে আধুনিক শহর কিংবা গ্রামের বাসা-বাড়িতে জায়গা স্বল্পতার কারণে সাধারণত গোসলখানার ভেতরই টয়লেট বা পায়খানা সংযুক্ত থাকে। অনেক বাড়িতে দেখা যায় বাথরুম ও টয়লেটের ফ্লোর একই সমতলে থাকে অথবা মাঝখানে কোনো স্থায়ী বা শক্ত আড়াল থাকে না। তবে ফ্লোর একটু উঁচু বা নিচু থাকতে পারে। এ ধরনের যৌথ বা সংলগ্ন বাথরুমে পবিত্রতা অর্জন তথা অজু এবং গোসল করা জায়েজ আছে কি না এবং সেখানে অজু ও গোসলের প্রচলিত দোয়াগুলো মুখে উচ্চারণ করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রায়ই সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, গোসলখানায় যদি অপবিত্রতা বা নাপাকির দৃশ্যমান কোনো অবশিষ্টাংশ বা দুর্গন্ধ না থাকে, তবে সেখানে অজু ও গোসল করা সম্পূর্ণ বৈধ।
তবে এ বিষয়ে ইসলামি আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যেহেতু যৌথ বাথরুমের মধ্যে টয়লেট বা মলত্যাগের স্থানও অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই ওই নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করে মুখে উচ্চারণ করে কোনো দোয়া পড়া বা আল্লাহর জিকির করা মাকরুহ বা অনুচিত। টয়লেট সংলগ্ন স্থানে বাথরুমে অজু বা গোসল করার সময় অন্তরে বা মনে মনে দোয়া পড়া জায়েজ আছে, কিন্তু মুখ দিয়ে দোয়া উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুফতি ও ইসলামি গবেষক মাওলানা সালিম বিন আবদ গণমাধ্যমকে জানান যে, বাথরুমের ভেতরে যদি টয়লেটের অংশটি আলাদা কোনো দেয়াল বা পর্দা দ্বারা সম্পূর্ণ আৃত বা পৃথক না থাকে, তবে সেখানে মুখে দোয়া উচ্চারণ না করে নিরবে অজু-গোসল সম্পন্ন করাই শ্রেয়। সাবধানতা হিসেবে বান্দা মনে মনে আল্লাহর নাম ও দোয়া স্মরণ করতে পারেন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক