ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনীতির অন্যতম বড় শক্তি তার আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় ভাবমূর্তি। তবে বর্তমান সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কঠোর অবস্থান তার সেই সুদৃঢ় ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের রাজনীতিতে তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকতে পারে না। কর্মসংস্থানহীনতা, শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভারতের তরুণরা যেভাবে রাজপথে নেমে আসছে, তা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক কঠিন বার্তা বহন করছে। সরকারের দমনমূলক নীতি বা কঠোরহস্তে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা অনেক সময় হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে নরেন্দ্র মোদি ও তার দল নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে সফল হলেও, আজকের এই তারুণ্যনির্ভর অসন্তোষ মোকাবিলা করা আগের মতো সহজ হবে না। দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলোর সঠিক সমাধান না মিললে এই বিক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার অজেয় ভাবমূর্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই তরুণ প্রজন্ম এক নতুন এবং জটিল পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ভারতের বর্তমান প্রশাসনকে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক