নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়া হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক শুরুর পর তিনি নিজে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল কর্মকর্তার যোগ্যতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের মতো একটি সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনি জটিলতা ও পেশাগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হন।
মার্কিন রাজনীতিতে বরাবরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কেটি জাকারিয়ার এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে নানা ধরনের বিশ্লেষণ শুরু হয়। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রেস সচিবের কাজের ওপর এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আইন অঙ্গনে বার পরীক্ষায় ফেল করাটা কোনো অপরাধ না হলেও, নিজেকে আইনজীবী হিসেবে জাহির করার বিষয়টি নৈতিক ও পেশাগত মার্জিত আচরণের পরিপন্থী। কেটি জাকারিয়ার এই স্বীকারোক্তির পর দেশটির সুশীল সমাজ এবং আইনি পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রেস উইংয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে আরও জোরালো প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক