বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এবার শুধু ছবি তোলা বা ভূমির মানচিত্র তৈরির কাজে নয়, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধারকাজ ও লাশ উদ্ধারের কাজেও সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহে নুয়াকোটের দেবীঘাট-৩ এলাকা থেকে সাতটি মরদেহ ড্রোনের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উদ্ধার করা হয়েছে, যা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধারকাজে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
প্রকৃতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে পায়ে হেঁটে বা প্রচলিত যানবাহনে করে দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তির এই ড্রোনগুলো কেবল উদ্ধারকাজেই নয়, বরং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং খাবার পানি পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পাহাড়ি খাদের গভীর থেকে শুরু করে বরফাবৃত চূড়া পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছে এসব বিশেষায়িত ড্রোন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের এই ভৌগোলিক বাস্তবতায় মানববিহীন এই আকাশযানগুলোর ব্যবহার কেবল সময়ের দাবিই ছিল না, বরং এটি জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ডের সাথে লড়াই করে ড্রোনের মাধ্যমে যেভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট