২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক দফা যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পরও থামেনি। বরং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, নৌ অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে তা আরো বিস্তৃত হয়েছে। সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ছয় মাসে কূটনৈতিক পর্যায়ে বহুবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী শান্তি অর্জিত হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এই সংঘাত এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও মাঠের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও এর প্রভাব পড়েছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কূটনীতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে। এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান সম্প্রতি এক বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত বন্ধ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না, বরং তা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগামী দিনে এই সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে কিংবা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা কাজ চালিয়ে গেলেও স্থায়ী কোনো পথ এখনও বের হয়নি। সাধারণ মানুষ আশা করছে, সব পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরে আসবে।
ডেস্ক রিপোর্ট