চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫১ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি এবং নানা ধরনের হুমকির শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন বিএজে-এর সাম্প্রতিক মাসিক মনিটরিং প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত সংবাদকর্মীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতা এখনো কোনো না কোনোভাবে বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধু শারীরিক হামলা নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় সংবাদকর্মীদের জর্জরিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ চক্রের অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান সংক্রান্ত বিভিন্ন অতি-প্রশংসামূলক ও একপেশে সংবাদ প্রচারে বাধ্য করার যে যুগ ছিল, তা থেকে গণমাধ্যম বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেও নানা মহলের হুমকি-ধমকি এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা।
ডেস্ক রিপোর্ট