দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণ, পলায়ন ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও অব্যাহতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া এবং বিভাগীয় প্রমাণের ভিত্তিতে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ বাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষ আশা করছে, এই ধরনের শুদ্ধি অভিযের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ জনবান্ধব হয়ে উঠবে এবং অতীতের সব ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের বার্তা পৌঁছে গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট