তৈরি পোশাক শিল্পে উদ্ভূত শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এই তৈরি পোশাক শিল্পে নানা ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কারখানায় অসন্তোষ দানা বেঁধে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের সুরক্ষায় অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠোর পুনর্বিন্যাস করা এখন সময়ের দাবি। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শ্রমিকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে দমনপীড়ন চালানো হলেও বর্তমান গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রশাসন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সাথে, দেশের কিছু কুচক্রী মহল বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকার অত্যন্ত কঠোরহস্তে এসব ষড়যন্ত্র দমন করতে বদ্ধপরিকর।
শ্রমমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যেই মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশিত হলে শ্রমিকদের মাঝে চলমান অসিন্তোষ দ্রুত নিরসন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পোশাক খাতের এই সংকট উত্তরণে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক খাতের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, সময়োপযোগী এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম প্রধান এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত আরও বেশি গতিশীল হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক