বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে করমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বাণিজ্যিক আলোচনার ফলশ্রুতিতে জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের এই শুল্কমুক্ত সুবিধা রপ্তানি খাতকে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন—এই পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার জন্য জোরালো তাগিদ দিয়েছে ঢাকা। বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই খাতগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হলেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নতুন বাজার ধরতে এই ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত এই সুবিধা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে এই বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়বে এবং অন্যান্য উন্নত দেশগুলোও বাংলাদেশের পণ্যের জন্য অনুরূপ বাণিজ্য সুবিধা প্রদানে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক