বাংলাদেশে আমরা সরকারের কাছ থেকে সব সময় শুনি সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, সবার শেষে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছে, সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ, সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা ট্রাম্পের স্বার্থ- এমন মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
তারা বলছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেনি। দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের পক্ষে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে যেসব গোপন চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল, তা নিয়ে আজও নানা মহলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি দেখতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও জোট সবসময় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছে। বিশেষ করে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে যে পরাধীনতার সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, কোনো বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশনে দেশ চলতে পারে না। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র মাপকাঠি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক