আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্তির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সোলার পার্ক থেকে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, সাধারণ গৃহস্থালির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন এবং শিল্প কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। সরকার নির্ধারিত প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। এর ফলে একদিকে যেমন ছাদের অব্যবহৃত জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক উদ্যোগে এখন খাতটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের এই প্রসারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ রাজনৈতিক দলগুলোও জনকল্যাণমুখী নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত জোর দেওয়া হলেও বর্তমান প্রশাসন অভ্যন্তরীণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ নাগরিক ও উদ্যোক্তারা যাতে সহজে এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন, সেজন্য ব্যাংক ঋণ এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশে সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও প্রকৌশলীরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক