দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট এবং চাহিদার অনুপাতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় সমগ্র দেশের সঙ্গে মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পে এক মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেনারেটর চালিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করা রিসোর্ট ও হোটেল মালিকদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে পাহাড়ি এই জেলায় ঘুরতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক পর্যটক সেবা না পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, ভুল পরিকল্পনা এবং কুইক রেন্টাল বাণিজ্যের কারণে আজ দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। উক্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের খেসারত আজ সাধারণ ব্যবসায়ী ও পর্যটনশিল্পকে দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ ছাড়া এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অসম্ভব। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক