কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমৃদ্ধ জনপদ ময়নামতির সমেষপুর গ্রাম। এ সময় সারা দেশে চারা উৎপাদনের শীর্ষে থাকা এই গ্রামটিতে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনহাউসের আদলে পলি নেট পদ্ধতিতে কোকোপিট ব্যবহার করে প্লাস্টিকের ট্রেতে চারা উৎপাদন করে লাখ লাখ চারা বিক্রি করছে এখানকার কৃষকরা। আধুনিক এই পদ্ধতির ফলে একদিকে যেমন চারার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক লাভও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঐতিহ্যগত কৃষিকাজের পাশাপাশি এই নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া গ্রামটির অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।
তবে এত সাফল্যের মধ্যেও স্থানীয় কৃষকদের মনে রয়েছে কিছু আক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা। আধুনিক কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য এবং সরকারি সহায়তার স্বল্পতার কারণে অনেক প্রান্তিক কৃষক চাইলেও এই প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষকরা গণমাধ্যমকে জানান, যদি সরকারিভাবে তাদের একটু আর্থিক প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হতো, তবে এই চারা উৎপাদন আরও বেশি সম্প্রসারিত হতো। একই সাথে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সমেষপুর গ্রামের এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতে একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক উপায়ে চারা উৎপাদন করলে ফসলের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এই চাষিদের পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে, তবে ময়নামতির এই চারা উৎপাদন শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক