রেলপথে জট এবং কয়লা পরিবহনে নানা বিধিনিষেধের সুদূরপ্রসারী প্রভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভারতীয় এই কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত কম থাকায় তারা এই সময়ে উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে তারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প পরিবহনের মাধ্যম নিয়ে কাজ চলছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতের এই ধরনের সাময়িক সংকট দ্রুত নিরসন করা না হলে তা শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সম্পাদিত বিভিন্ন অসম চুক্তির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জ্বালানি খাতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, খুব শীঘ্রই কয়লা পরিবহনের এই জটিলতা কেটে যাবে এবং পূর্বের ন্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট