শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

ডিপি ওয়ার্ল্ডের এনসিটি পরিচালনা চুক্তি ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন মহল, শ্রমিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। ২০১৯ সালে দুবাই সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল, যা সাম্প্রতিক চূড়ান্ত চুক্তির পর আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই অস্বচ্ছ ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি জিটুজি তথা সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করার ফলে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের অবিলম্বে এই চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে, চুক্তির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বন্দর নগরীতে নানামুখী প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পরিপন্থী। বিশেষ করে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব আত্মঘাতী চুক্তি করা হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেগুলোর বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানარসহ বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং অবিলম্বে এই একতরফা চুক্তি বাতিলের আলটিমেটাম দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও আন্দোলনকারীরা তা মানতে নারাজ। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য, দেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল কোনো বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে দেশীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং কর্মসংস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। সাধারণ মানুষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা এবং জনমতের প্রতিফলন দেখতে চান।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD