খুলনার সুপার জুট মিল একসময় দেশের পাট খাতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি একসময় প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করত। অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত এই মিলের উৎপাদিত পাটজাত পণ্য বিশ্বের ২৪টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি করা হতো। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের এতটাই চাহিদা ছিল যে, বিদেশি ক্রেতারা পণ্য হাতে পাওয়ার আগেই অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করতেন। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তিনবার মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেছিল।
অথচ সময়ের পরিক্রমায় ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি আজ ঋণের ভয়াবহ ভারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একসময়ের লাভজনক এই মিলটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে। শুধু সুপার জুট মিলই নয়, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই খাতের অন্যান্য প্রতিবেশ প্রতিষ্ঠানগুলোও আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের পাট শিল্পকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করতে বিশেষ প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ধ্বংস হওয়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ মহლის হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক