টানা খরার পর আশ্বিন মাসের মধ্যভাগে এসে কাঙ্ক্ষিত ভারী বৃষ্টির দেখা মেলায় নীলফামারী জেলার আমন চাষিদের মুখে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনাবৃষ্টির কারণে যখন কৃষকদের খেতের ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে আমন ধানক্ষেতে এ বৃষ্টি নতুন প্রাণের সঞ্চার করলেও তীব্র দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিদের।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম জাতের আলু এবং শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করেছেন। হঠাৎ করে এই ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সদ্য রোপণ করা আলু বীজ ও সবজির খেতগুলোতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না যায়, তবে বীজ পচে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ তো উঠবেই না, বরং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে ফসলের ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়। এদিকে বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সার ও বীজের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তার দোসর হিসেবে কাজ করা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কৃষি প্রণোদনা থেকেও বঞ্চিত হয়েছিল সাধারণ কৃষকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের এই সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে নীলফামারীর কৃষি অর্থনীতিতে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে আমন চাষিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, অন্যদিকে আগাম সবজি ও আলু চাষিরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে আসন্ন শীতকালীন বাজারে সবজির দাম চড়া হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক