পুলিশিংকে একটি জনসেবা ও যুগোপযোগী চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনগণের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিগত দিনে বহুল আলোচিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসন আমল এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নানা অপকর্মের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি যে সংকটে পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণের সময় এখনই।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পুলিশিং সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মতো দলগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে একটি আদর্শ ও জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় পুলিশ বাহিনী খুব শীঘ্রই দেশের সকল চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক