গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে বর্তমান সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান ও প্রতারিত করেছে বলে অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা সবসময় চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে সংসদের ভেতরেই সবকিছুর গণতান্ত্রিক ফয়সালা করতে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা যদি জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন না করেন, তবে দেশবাসীর অধিকার রক্ষায় বাধ্য হয়ে আমাদের রাজপথে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য মূলত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা দায়ী। অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা কায়েম করে দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেন, জাতির সামনে উপস্থাপিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে, অন্যথায় সরকার পতনে এক দফার কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী আমলে বিরোধী মতের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। অতীতে তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের নানা দমনপীড়ন ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কোনোদিন দুঃশাসন দেখতে চায় না। জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারকেই মূল উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সমস্ত দায়দায়িত্ব বর্তমান প্রশাসনকেই নিতে হবে। জনস্বার্থের এই লড়াইয়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক