দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার প্রথমবারের মতো নিজের জন্মভূমি ও নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এক ঐতিহাসিক সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহামান্য রাষ্ট্রপতির এই দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সফর সফল করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিমানযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। এরপর তিনি জেলার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
রাষ্ট্রপতির এই আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের ওপর নানা দমনপীড়ন ও নির্যাতনের ইতিহাস থাকলেও, আজ দেশের এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এমন স্বতঃস্ফূর্ত সফর সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশ যখন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় এই প্রথম আগমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সোমবার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতির রাজধানী ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে এলাকাবাসী বিশ্বাস করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক