ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে না। এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্থানীয় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত।
সাংবাদিকদের বলেছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা, ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাচ্ছিল। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্যজুড়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সব প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়মনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষকরা বলছেন, অনুমোদন নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকলেও প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নীতি বাস্তবায়নের ফলে উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলে সংখ্যালঘু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, উচ্চ আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকার রক্ষায় যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক